শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক টানা ছুটিতে রূপকন্যা সিলেটে নেমেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি পর্যটক আসায় নগরীর হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র আবাসন সংকট। আগাম বুকিং ছাড়া শেষ মুহূর্তে আসা বহু ভ্রমণপিপাসু পুরো শহর ঘুরেও কোনো কক্ষ পাননি। নিরুপায় হয়ে অনেক পর্যটক পরিবার-পরিজন নিয়ে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের উন্মুক্ত আঙিনায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।
সবুজ চা-বাগান, জলমগ্ন সোয়াম্প ফরেস্ট, মেঘ-পাহাড়ের মিতালি আর স্বচ্ছ জলধারায় গা ভাসাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে ছুটে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে গোয়াইনঘাটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট এবং কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে। রাতারগুলের খেয়াঘাটগুলো থেকে দৈনিক ৮০০ থেকে ৮৫০টি নৌকা পর্যটক বহন করেছে। সাদাপাথর খেয়াঘাটের মাঝিমালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন জানান, গত বুধবার প্রায় দুই হাজার, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৭০০ এবং শুক্রবার দেড় হাজার ট্রিপ নৌকা চলাচল করেছে। প্রতিটি নৌকা দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত যাতায়াত করেছে। এছাড়া জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া ও লালাখালেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
আবাসনসংকটের পাশাপাশি যাতায়াত নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েন দর্শনার্থীরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলমান সংস্কারকাজ ও সংযোগ সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে স্বাভাবিক ছয় ঘণ্টার যাত্রা পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এছাড়া ট্রেনের টিকিট সংকট ও অতিরিক্ত বিমানভাড়া সাধারণ মধ্যবিত্ত পর্যটকদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করেছে।
হোটেল স্টার প্যাসিফিকের মালিক ফালা উদ্দিন আলী আহমদ জানান, সড়কপথে ভোগান্তি ও আবাসন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নিয়মিত পর্যটক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক চাঙ্গাভাব এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক এজাজ আহমেদ চৌধুরী।
সার্বিক বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পূজার ছুটির শেষ ভাগে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে মানুষের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতে ভিজিল্যান্স টিম ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।