শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দেশজুড়ে চাঁদাবাজি নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই একটি যুগান্তকারী নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। নতুন এ আইন পাস হলে ভুক্তভোগীর সরাসরি অভিযোগ বা এজাহার ছাড়াই পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে (নিজে বাদী হয়ে) অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা পুলিশ লাইনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
আইজিপি বলেন, সমাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সাধারণত রাজনৈতিক বা পেশিশক্তির প্রভাবে প্রভাবশালী হয়ে থাকে। ফলে তাদের ভয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা থানায় গিয়ে মামলা করতে বা প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়তে নতুন আইনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন আইন কার্যকর হলে চাঁদাবাজির যেকোনো ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স (অডিও, ভিডিও বা প্রযুক্তিগত প্রমাণ) মিললেই পুলিশ সরাসরি বাদী হয়ে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আইনটির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের জটিলতা তুলে ধরে পুলিশপ্রধান বলেন, “আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে অনেক সময় পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। আমরা এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে এসে সবার সহযোগিতায় একটি আধুনিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।”
আইজিপি আরও বলেন, সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিংকে শুধু ‘কাগুজে অনুশীলন’ থেকে বের করে এনে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশের একটি সক্রিয় ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক উইং হিসেবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।