শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

নাস্তা কম দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

নাস্তা কম দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বাবার বাড়ি থেকে আনা নাশতার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সিফাতুন আকতার নুর (২২) নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা নয় দিন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধূর পিতা মো. নুর আহমদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সিফাতুন চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা নুর আহমদের একমাত্র মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী বিদেশে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিজের হাতে তৈরি করা নাশতা নিয়ে যান। এ সময় নাশতার পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় শাশুড়ি ও ননদরা ক্ষুব্ধ হয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁর মাকে মারধর করেন। তখন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন বাধা দিতে গেলে ননদ রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে উপর্যুপরি মারধর করেন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ওই রাতেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সিফাতুনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে টানা নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবরই মা জুহিনুর আক্তার বাদী হয়ে পটিয়া থানায় শাশুড়িসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

নিহতের পিতা নুর আহমদ অভিযোগ করে বলেন, বর্বরোচিত এ মারধরের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সিফাতুন ‘আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জিয়া জানান, মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ আগেই পেয়েছিল পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com