বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন আন্দোলনকারী নন, বরং স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে এ দাবি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এর আগে, শনিবার সকালে নোয়াখালী জেলার এসপি মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বৃহস্পতিবার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাহিদুল ইসলাম (১৬), ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাইম হোসেন (২১), এবং জয়াগ ইউনিয়নের ভাওরকোট গ্রামের ইমাম হোসেন ইমন (২২)।
এই গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে জানান, নোয়াখালীতে এই তিনজন আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচিত নন এবং তারা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের মধ্যে একজন সেদিনের ঘটনায় লুট করা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে টিকটকে পোস্ট দিয়েছিল, যা পরে স্থানীয় জনতার মাধ্যমে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে।
পুলিশের এ ঘটনায় আরও জানায়, এই তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে ফোন ম্যাসেজিংসহ অন্যান্য এভিডেন্স পাওয়া গেছে। এছাড়া একজন কিশোর নিহত পুলিশ সদস্যের মানিব্যাগ ও ফোন নিয়ে যায়। নোয়াখালীতে লুট হওয়া ২৯টি অস্ত্রের বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সারজিস আলম আরও বলেন, এই তিনজন আন্দোলনের সমন্বয়ক বা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন না। বরং তারা স্থানীয় একটি গ্যাং, ‘বুলেট গ্যাং’-এর সদস্য। তাদের ফেসবুক প্রোফাইলে বুলেট ট্যাগও পাওয়া গেছে।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর, তাদের মধ্যে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একজনকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সারজিস আলম পোস্টে আরও যোগ করেন, আইনভঙ্গকারী ব্যক্তিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত, কিন্তু যারা ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের হয়রানি করা উচিত নয়।
পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সারজিস আলম পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।