শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
নেত্রকোণরা আলো ডেস্ক:
রিজার্ভ থেকে কোনো অর্থ খরচ না করেই, গত দুই মাসে ১.৫ বিলিয়ন ডলার দেনা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে তেল, গ্যাস, সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কাটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি সব দেনা মিটিয়ে অর্থনীতি আরও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। তিনি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই মুহূর্তে চিন্তা না করে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন।
জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় সবটুকুই বাংলাদেশ আমদানি করে থাকে, যার জন্য গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। বিদ্যুৎ ও সারের ক্ষেত্রেও আমদানি নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে চলমান ডলার সংকটের কারণে সময়মতো এসব ব্যয় পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আদানি, কাফকো, শেভরন, বিপিসিসহ বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ২.২৫ বিলিয়ন ডলারের দেনা জমা হয়। তবে গত দুই মাসে রিজার্ভে হাত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক ১.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। গভর্নর আশা করছেন, বাকি অংশও আগামী দুই মাসের মধ্যে মিটিয়ে ফেলা যাবে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারের প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের অনিষ্পন্ন দেনা ছিল, যা আমরা কমিয়ে ৭০০ মিলিয়নে নিয়ে এসেছি। সারের জন্য, বিদ্যুতের জন্য এবং আদানি ও শেভরনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেনা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই দেনা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা। তখন অর্থনীতিতে আরও বেশি লিকুইডিটি থাকবে।”
দেনা পরিশোধের পর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনবে। এছাড়া, আরও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতিও চলছে। তবে বর্তমানে ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ এবং তার পরিশোধের ধারাবাহিক চাপে কিছুটা উদ্বিগ্ন গভর্নর। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির এই অবস্থায় ধৈর্য্য ধরে অন্তত আরও এক বছর সামাল দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “যদি আমি আইএমএফ থেকে ২-৩ বিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক থেকে আরও ২ বিলিয়ন ডলার পাই, তবে এই ৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে সরকার কিছু ব্যয় বাড়াতে পারবে। এতে করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা গতি পাবে। তবে এখনই বিনিয়োগের বড় কোনো প্রবৃদ্ধি আশা করা উচিত নয়। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৪-৫ শতাংশে নামতে পারে, কিন্তু সেটাও এক বছরের জন্য।”