শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। এই দাবিগুলোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘তাবলীগ, কওমি মাদ্রাসা ও দ্বীন রক্ষার্থে’ এক মহাসম্মেলনে এই ৯ দফা দাবি জানানো হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা মাহফুজুল হক।
৯ দফা দাবি গুলো হলো:
১. কওমি মাদ্রাসাগুলোর দীনি শিক্ষা-কার্যক্রমে সকল প্রকার হয়রানি ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
২. সাধারণ শিক্ষা সিলেবাসে সর্বস্তরে ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৩. মজলুম আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
শাপলা চত্বরে নিরীহ ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে বিচার কার্যকর করতে হবে।
৫. টঙ্গী ময়দানে ২০১৮ সালের হামলার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়, কারণ তার অবস্থান ইসলামের স্বীকৃত আকিদার বিপরীত।
৭. বিশ্ব ইজতেমা আগের নিয়মে দুই পর্বে আয়োজনের দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবিত তারিখগুলো যথাক্রমে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি।
৮. কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের কার্যক্রম শুরায়ি নেজামে পরিচালিত হবে, যেখানে সাদপন্থিদের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।
৯. কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। সকাল ৯টা থেকে সম্মেলন শুরু হয়, এবং ফজরের নামাজের পর থেকেই তাবলিগ জামায়াতের লোকজন উদ্যানের দিকে আসতে শুরু করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে আশপাশের এলাকায় লোকজন অবস্থান নেয়। সম্মেলনের কারণে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বড় ধরনের যানজট দেখা দেয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শাহ্ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা সাজেদুর রহমান প্রমুখ।