শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সব হিসেব নিকেশ ছাপিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাংখিত সংখ্যা ২৭০ ছুঁয়ে ফেলে আবারো হোয়াইট হাউসের মসনদ ট্রাম্প তার হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছেন।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগণনার সর্বশেষে ঘোষিত ফলাফলে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৭৬ টি আসন। আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পান ২২৬ টি আসন।
বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘ভুল’ প্রমাণ করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনেও বুথফেরত সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন থেকে পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। পরে গণনা শেষে দেখা যায় হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউস দখলে নেন তিনি। এবারও বুথফেরত সমীক্ষায় তিনি ছিলেন পিছিয়ে। সব হিসেব ,সমীক্ষা ‘ভুল’ প্রমাণ করে জয় ছিনিয়ে নেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিজয় ভাষণ:
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি “অসাধারণ বিজয়” পেয়েছি। ‘বিপুল জয়ের’ জন্য আমেরিকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, “সমালোচকদের ভুল প্রমাণিত করে আমরা জয়ী হয়েছি। আমেরিকা অভূতপূর্ব এবং শক্তিশালী রায় দিয়েছে।” তার পরেই ফের ‘আমেরিকাকে আবার শ্রেষ্ঠ করব’ স্লোগানটি দেন ট্রাম্প।
নিজের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার ফ্লরিডার পাম বিচে প্রথম বিজয়-ভাষণ দেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই তিনি একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বেশিরভাগ জীবন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শোবিজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, আর রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ খুব বেশি উল্লেখযোগ্য ছিল না।
ট্রাম্প এর আগেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বললেও, ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি আচমকা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। প্রথমে খুব কম লোকই এটি গুরুত্ব সহকারে নেয়, কিন্তু তিনি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলেন এবং ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন।
তার বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের একজন আবাসন ব্যবসায়ী, এবং মা মেরি ট্রাম্প স্কটিশ বংশোদ্ভূত। ট্রাম্প ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল ছিলেন, যার কারণে তাকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে পাঠানো হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। যদিও তার বাবা একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন, ট্রাম্প খুব নিচু পদ থেকে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনোসহ বড় বড় ব্যবসায়িক প্রকল্প গড়ে তোলেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার স্পনসর ছিলেন এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ টিভি রিয়েলিটি শোয়ের উপস্থাপনা করে সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন। ট্রাম্প একাধিকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলেও তিনি বরাবরই আলোচনায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হয়েছে, এবং তিনি নিজেও মামলায় জড়িয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনবার বিয়ে করেছেন এবং পাঁচ সন্তানের পিতা। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন চেক মডেল ইভানা, দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস, এবং তার বর্তমান স্ত্রী মডেল মেলানিয়া, যিনি হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করেন।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নেতিবাচক মতামত প্রচুর সমালোচনার সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পরে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে, যদিও সেই তদন্ত এখনও চলছে। ট্রাম্প বরাবরই আলোচনায় থাকতে ভালোবাসেন এবং তার টুইটগুলো প্রায়ই তাকে সংবাদের শিরোনামে নিয়ে আসে।