শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
জাতীয় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং সদস্য সচিব ফজলুর রহমান।
ছয় দফা প্রস্তাবনায় বলা হয়, সেনাবাহিনীর সহায়তায় বর্তমান সংবিধান বাতিল করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করতে হবে, যেখানে প্রধান বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক ও রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিদ্যমান সংবিধান বাতিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দ্রুত গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের অর্থনীতি রক্ষায় ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ, আমদানি ও রপ্তানি লেনদেন সেনাবাহিনীর মনিটরিং ও তত্ত্বাবধানে রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের উপজেলাগুলোতে সেনাবাহিনী স্থায়ীভাবে মোতায়েন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশে নতুনভাবে বিপ্লব প্রয়োজন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, তারা স্বাধীনতার চেতনা ও দেশের মানুষের অধিকারের পরিপন্থী কাজ করছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ বলেন, দেশের পরনির্ভরশীল মানসিকতা দূর করতে হবে এবং বাহিনী সংস্কারের মাধ্যমে ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেতে হবে। লে. কর্নেল এস এম আইয়ুব (অব.) বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো দেশপ্রেমিক সৈনিকদের দ্বারা সমৃদ্ধ এবং প্রয়োজনে তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আরিফ, নাগরিক পরিষদ আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, ব্যারিস্টার মুসতাসীম তানজীরসহ অনেকে।