রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরল স্বীকারোক্তি করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলে অল্প কিছু করা যায়। আমরা যদিও বলি ধৈর্য ধরুন, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য তা কঠিন।”
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দেশ পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “বাজারে এক হাজার টাকার ছোট একটি ব্যাগের অল্প বাজার করতে হয়। আমিও বাজারে যাই, সাধারণ মানুষের এই কষ্টটা টের পাই। মানুষের জ্বালা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।”
অর্থ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে পীড়া দিচ্ছে। তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি একদিনে হয়নি। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আগে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর তাৎক্ষণিক সুফল আসেনি। যেমন, পদ্মা সেতুর সুফল দক্ষিণবঙ্গ পেতে পাঁচ বছর লেগে যাবে।”
তিনি আরও জানান, আদানির পাওনা নিয়ে চাপ ছিল। এর মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের দাবি থাকলেও ২০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। জ্বালানি ও সারের বকেয়া পরিশোধ করে সরবরাহ ঠিক রাখা হয়েছে। আগে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া পাওনা ছিল, যা কমিয়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঠিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজ, আলু, চিনি, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এছাড়া এলসি মার্জিন তুলে দিয়ে সার, ডাল, সয়াবিন তেল, ও রোজার খেজুরের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ব্যাংক ও বিমা খাতে সমস্যা রয়েছে। তবে এগুলো চটজলদি সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছি, যারা ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। আরেকটি টাস্কফোর্স পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।”
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সরকার তারল্য সংকট কাটানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।