রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়”—এই নীতির ভিত্তিতে ভারতসহ প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে ভারতের বিরোধিতা করার জন্য পরিচিত বলা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জামায়াতের রাজনীতির ভুল ব্যাখ্যা করতে এই মতবাদ ছড়ানো হয়েছে। আমরা ভারতসহ সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সমান মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমাদের নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’। আশা করি, ভারতও পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে এমন সম্পর্ক বজায় রাখবে।”
জামায়াতে ইসলামীর কট্টরপন্থী পরিচয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “জামায়াত একটি আধুনিক, উদার এবং গণতান্ত্রিক দল, যার ভিত্তি ইসলামি আদর্শ। এটি কট্টরপন্থী সংগঠন নয়। বরং আমরা স্বাধীন একটি রাজনৈতিক দল এবং বিশ্বের অন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিত্ব নেই।”
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর ধারণায় বিশ্বাস করে না। প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে দেখা হয়। জামায়াতের ইতিহাসে হিন্দু বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার উদাহরণ নেই। বরং বিভিন্ন সময়ে আমরা সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি।”
জামায়াত সরকারে এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে। কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই উপকারী। সরকারে এলে আমরা এই দিকেই মনোযোগ দেব।”
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই তত্ত্বের কোনো ভিত্তি নেই। দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদী নীতির কারণে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের পতন ডেকে এনেছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে খারিজ করার উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই সব সিদ্ধান্ত নেবে।”
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।