শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দেশের শিক্ষা প্রশাসনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয়তাবাদী ঘরানার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক রদবদল শুরু হলেও প্রশাসনিক অস্থিরতা কমেনি।
মন্ত্রণালয় থেকে গত সপ্তাহে দুটি দপ্তরের শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে একজন বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী কর্মকর্তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ পেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক প্রফেসর কাজী কাইয়ুম শিশিরকে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ দপ্তরে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন।
কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেছেন। অপরদিকে, তিনি নিজেকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার অভিযোগ তুলেছেন।
দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সিলেটের ১১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা, কুমিল্লা, যশোরসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তাকে ওএসডি করে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিগগিরই আরও বড় ধরনের রদবদল আসবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে শিক্ষাপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন কিংবা দায়িত্বে অবহেলা করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর এই প্রচেষ্টা আগামীতে স্থিতিশীলতা আনতে কতটা সফল হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।