শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
চিন্ময় দাসের গ্রেফতারকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘের সংখ্যালঘু ইস্যু সংক্রান্ত ফোরামে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু বক্তা চিন্ময় দাসের গ্রেফতারকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তাকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং মামলাটি বিচারাধীন। সম্প্রতি একজন মুসলিম আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও ধর্মীয় নেতাদের সহায়তায় শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবসময় সতর্ক এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যে কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বদ্ধপরিকর।”
তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রকৃত কারণ তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, “৫ আগস্ট পরবর্তী সহিংসতার মূলে ছিল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ইস্যু ছিল না। বেশিরভাগ সহিংসতার শিকার মুসলমান জনগোষ্ঠী হলেও সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো উদ্দেশ্যমূলক হামলা হয়নি। বরং বাংলাদেশের মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে।”
বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে দুজন উপদেষ্টার নিয়োগ এর প্রমাণ।”
সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশ যখন ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তখন কিছু মহল মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করছে। আমাদের সরকার সেসব মিথ্যাচার প্রতিহত করতে এবং বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিদেশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানায়।”
এভাবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।