শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “৫ আগস্টের আগে ভারতের সঙ্গে আমাদের এক রকম সম্পর্ক ছিল, এখন আরেক রকম। এই সম্পর্কে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।”
শনিবার (৩০ নভেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: প্রত্যাশা, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা কারো জন্য হুমকি নই এবং চাই না কেউ আমাদের জন্য হুমকি হোক। আমাদের উদ্দেশ্য সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করা। তবে, পানি সমস্যা, সীমান্ত হত্যা এবং অন্যান্য বিষয়ে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে অপরাধ হতে পারে, কিন্তু তার জন্য গুলি করে মানুষ হত্যা করা কোনো যুক্তি হতে পারে না। পৃথিবীর অন্য কোনো সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা ঘটে না।”
ভারতীয় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
তৌহিদ হোসেন বলেন, “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সহায়ক নয়। তারা বাংলাদেশের বিষয়ে মিথ্যাচার করছে, যা আমাদের মিডিয়াকে তুলে ধরতে হবে।”
জাতীয় ঐক্যের অভাবকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। আমাদের ঘর ঠিক করার পাশাপাশি দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।”
উপদেষ্টা প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলে তাদের প্রভাব বাড়বে। যেমনটি ভারতীয়রা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে করেছে। এটি বাংলাদেশিদের জন্যও প্রয়োজন।”
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. এস এম আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক দেশ নয় এবং জনগণই দেশকে এগিয়ে নেবে। বিএনপি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে।”
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। স্বাধীনতার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এ জাতির সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো উচিত।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।