শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সিরিয়ার বিরোধী গোষ্ঠী রাজধানী দামেস্ক দখল করে ‘স্বাধীনতা’ ঘোষণা করেছে। এ সময় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রোববারের এই ঘটনা দেশটিতে দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক পরিণতি এবং আসাদ পরিবারের অর্ধ-শতাব্দীর শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
উদযাপনের ঢল: রাজধানী দামেস্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ের আনন্দে মিছিল হয়েছে। বিশেষত লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে উদযাপনের ঢল নেমেছে। বাস্তুচ্যুত অনেকেই তাদের বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
উত্তেজনা ও শঙ্কা: কামিশলিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আসাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। উদযাপনের মধ্যেও রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া এবং জাতিসংঘ: সিরিয়ার সংকট সমাধানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত গিয়ের পেডারসেন।
চীন:
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে সিরিয়ায় চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে।
জার্মানি:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেন, “আসাদের পতন লক্ষ লক্ষ সিরিয়ানের জন্য স্বস্তি। তবে চরমপন্থিদের দখল যেন নিশ্চিতভাবে রোধ করা হয়।”
ইসরাইল:
ইসরাইল জানিয়েছে, সিরিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল এখন চরমপন্থি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। গোলান মালভূমিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
রাশিয়া:
রাশিয়া জানিয়েছে, বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল না।
তুরস্ক:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, “১৩ বছরের এই সংকটের স্থিতিশীল সমাধান আনতে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।”
সংকট ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সিরিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, এবং ফিলিপাইন পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে সিরিয়ায় এই পরিবর্তন একটি নতুন যুগের সূচনা করলেও, রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ এবং সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঠেকানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা