শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
লাইসেন্সবিহীন সম্প্রচার ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৬’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এই আইনের আওতায় টিভি, রেডিও, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ বাণিজ্যিক অনলাইন পোর্টালগুলোকেও আনা হচ্ছে।
কোন কোন মাধ্যম এই আইনের আওতায়?
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ও ক্যাবল টেলিভিশন, আইপি টিভি, রেডিও, ডিটিএইচ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপস এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টালগুলো এর আওতাভুক্ত হবে। তবে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা অপেশাদার কনটেন্ট এই আইনের বাইরে থাকবে। ⚖️শাস্তি ও জরিমানার বিধান
খসড়া অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম চালালে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া:
গোপন তথ্য প্রচার: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সামরিক-বেসামরিক তথ্য প্রচারে ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা। 🛡
অবৈধ যন্ত্রপাতি: অনাপত্তি ছাড়া যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৩ বছরের জেল বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা।
বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত অপরাধ: জুয়া, মাদক বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারে ২ বছরের জেল বা ৩০ লাখ টাকা জরিমানা। 🚫
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: সংসদ ভবন বা সেনানিবাসের দৃশ্য বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করলে ৬ মাসের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা।
বিচার ও কমিশন গঠন
এই অপরাধগুলো বিচারের জন্য সরকার এক বা একাধিক ‘সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করবে। জেলা ও দায়রা জজদের সমন্বয়ে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করবেন। 🏛️
এছাড়া, ৫ সদস্যের একটি ‘সম্প্রচার কমিশন’ গঠিত হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার (ন্যূনতম একজন নারী)। এই কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদান, আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তথ্যের বস্তুনিষ্ঠ প্রবাহ নিশ্চিত করতে তদারকি করবে।