শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
বীমা খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) ‘ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদানের উদ্যোগ শুরুতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। ভালো কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়নের এই আয়োজনকে বিশিষ্টজনরা ইতিবাচক বললেও, পুরস্কারের স্বচ্ছতা ও অর্থায়ন নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
অভিযোগ উঠেছে, বীমা আইন লঙ্ঘনকারী ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কিছু প্রতিষ্ঠানকেও ‘সেরা’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড প্রকাশ না করায় এই সিলেকশন নিয়ে সাধারণ বীমা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অনুষ্ঠানের খরচ মেটানোর বিষয়টি। আইডিআরএ জানিয়েছে, পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানকেই অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় বহন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “পুরস্কারের টাকা যদি কোম্পানির কাছ থেকেই নেওয়া হয়, তবে এটি কি যোগ্যতার স্বীকৃতি নাকি অর্থের বিনিময়ে কেনা সম্মান—সেই প্রশ্ন উঠবেই।” দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও এই প্রক্রিয়াকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন।
আইডিআরএ-এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণেই নির্বাচিত কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে এই ব্যয় বহন করছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণ বীমা খাতের ইমেজ পুনর্গঠনের বদলে আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।