শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ থামলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে বৈঠকের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা।
বৈঠকের প্রধান বাধা ও পাল্টাপাল্টি শর্ত:
ইসলামাবাদ বৈঠকের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন ইস্যু। ইরান চায় তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হোক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি—বর্তমান যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্য প্রযোজ্য নয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনার কোনো অর্থ হয় না। বিপরীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
আলোচনার টেবিলে থাকা বড় ইস্যুসমূহ:
ইরানের দাবি: ১০ দফা প্রস্তাবে তারা নিষেধাজ্ঞা ও সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চাইছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের স্বীকৃতি চায় তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা দাবিতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইসলামাবাদের প্রস্তুতি:
শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কার্যকর চুক্তি না হলে ইরানের ওপর বড় হামলা চালানো হবে। পাল্টা জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, মিত্রদের ছেড়ে তারা কোনো সমঝোতা করবেন না।
এদিকে, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি শহরে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।