মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরায়েলের চিত্র:
যুদ্ধের পুরো সময়ে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার অর্ধেকই ছিল শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ সমৃদ্ধ। এই হামলায় ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে মোট ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৫,৫০০ জন। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আক্রমণ:
পাল্টা জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের ৪,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে ১০,৮০০টিরও বেশি হামলা চালায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একাই ১৩,০০০টি হামলা পরিচালনা করে বলে জানা গেছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক স্থাপনা।
ইরানের সামরিক ও নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি:
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় ৬০% ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং ৮৫% রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বেও বড় আঘাত এসেছে। যুদ্ধের শুরুতেই আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরিসহ ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত:
ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টরসহ একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেশটির গ্যাস অবকাঠামো, ইস্পাত কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করার ফলে ইরানের অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।