সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ঢাকা: আর মাত্র দুই দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় প্রধান চার চ্যালেঞ্জ—যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং মহাসড়কের পাশের পশুর হাট মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি জানান, “ঈদযাত্রা যদি নিরাপদ ও যানজটমুক্ত হয়, সেটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদের আনন্দ। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা ও মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি চলছে।”
১৫৫টি জ্যাম পয়েন্টে কড়া নজরদারি ও ড্রোন ট্র্যাকিং
হাইওয়ে পুলিশ সারা দেশের মহাসড়কে ১৫৫টি স্পটকে ‘রেড জোন’ বা বিশেষ যানজটপ্রবণ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে ৫২টি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৮টি পয়েন্ট রয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্যে রিয়েল টাইম ট্রাফিক ডেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া পুরো মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি বন্ধ ও একমুখী সড়ক
ঈদযাত্রার চাপ সামলাতে ২৫-২৭ মে এবং ২৯-৩১ মে—এই মোট ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পশুবাহী ও জরুরি সেবার যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত। এছাড়া যানজট এড়াতে আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর সেতু এবং এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুরমুখী লেনটি কেবল ঢাকাত্যাগী গাড়ির জন্য একমুখী (ওয়ানওয়ে) করা হয়েছে।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মাঠে ৬৯ ভ্রাম্যমাণ আদালত
টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এবার মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৯টি করা হয়েছে। গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও কমলাপুরসহ প্রধান টার্মিনালগুলোতে এসব আদালত কাজ করছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিলে মালিকদের জরিমানা ও রুট পারমিট বাতিল করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পশুর হাট ও টোল প্লাজায় বিশেষ নিয়ম
মহাসড়ক লাগোয়া ২১৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের কারণে যেন যানজট না হয়, সেজন্য হাটের প্রবেশপথ মূল সড়কের বিপরীতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রধান সেতুগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ চালু রাখা হয়েছে, যাতে টোল প্লাজায় কৃত্রিম জট তৈরি না হয়।
পরিকল্পনা যেন কাগজে না থাকে: প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের
সরকারের এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যাত্রী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা সুন্দর হলেও এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের কঠোর নজরদারির ওপর। পরিবহন ও হাটগুলোতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনাগুলোর শতভাগ কার্যকারিতা দেখতে চান সাধারণ যাত্রীরা।