রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার মাঝেই বড় সুখবরের আভাস মিলেছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এই কাঠামো একবারে নয়, বরং মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই নতুন বেতন কাঠামোর জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী:
প্রথম ধাপ (২০২৬-২৭): কর্মচারীদের মূল বেতনের সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮): বাকি মূল বেতনটুকু সমন্বয় করা হবে।
তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯): বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণতা দেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। এছাড়া গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এই নতুন পে-স্কেলের সুফল দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী প্রবীণ মানুষও পাবেন। এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। এই পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, প্রবীণ পেনশনভোগী এবং মাঠপর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানের একটি দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।