বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দেশের ব্যাংকিং খাত ২০২৫ সালে নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ অনুযায়ী, গত এক বছরে পুরো ব্যাংকিং খাত রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার নিট লোকসানে পড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশই এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘ডিস্ট্রেসড’ অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই (AAQR) করায় এই প্রকৃত নাজুক চিত্র সামনে এসেছে। এর মধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ১০টি ব্যাংক সম্মিলিতভাবে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা লোকসান করেছে, যা লাভজনক ব্যাংকগুলোর মুনাফার সাথে সমন্বয় করার পর সামগ্রিক লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
সবচেয়ে বেশি লোকসান করা ৩ ব্যাংক:
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ৬৬,৩৮৬ কোটি টাকা
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ৩১,০০০ কোটি টাকা
এক্সিম ব্যাংক: ২৮,৯০৮ কোটি টাকা
(এছাড়াও গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, জনতা, এবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ও প্রিমিয়ার ব্যাংক বড় অঙ্কের লোকসান গুনেছে।)
সংকটেও শীর্ষে থাকা লাভজনক ৪ ব্যাংক:
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক: ৩,২২০ কোটি টাকা (শীর্ষে)
ব্র্যাক ব্যাংক: ২,২৫০ কোটি টাকা
সিটি ব্যাংক: ১,৩২৪ কোটি টাকা
পূবালী ব্যাংক: ১,০৯০ কোটি টাকা
ঋণ পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘ডিস্ট্রেসড’ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা ঋণ এবং বাকি অংশ খেলাপি, অবলোপন ও আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকা ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ঋণ থেকে বর্তমানে কোনো নিয়মিত আয় আসছে না।