বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
তেহরান: বিদেশে নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে আটকে থাকা ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত পেতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধারই এখন তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রাস্ফীতিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি সচল করতে ইরান প্রাথমিকভাবে অন্তত ২৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলার ধাপে ধাপে ছাড় করার দাবি জানাচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে চীনে, যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘদিন ধরে চীনের কাছে তেল বিক্রির পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ তেহরানে পৌঁছাতে পারেনি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস আমদানির বিপরীতে ইরাকের কাছে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮ সালের আগে তেল কেনার সূত্রে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার করে অর্থ আটকে আছে। ওমান, কাতার, জাপান ও লুক্সেমবার্গের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে ইরানি তহবিল।
২০২৩ সালের এক বন্দিবিনিময় চুক্তির অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হলেও, ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর সেই তহবিল ব্যবহারের শর্ত আরও কঠোর করা হয়। রয়টার্স জানায়, মার্কিন আলোচনাকারীরা এই তহবিলগুলো কঠোরভাবে মানবিক ব্যয় ও ভবিষ্যৎ চুক্তি মেনে চলার শর্তে ধাপে ধাপে মুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এই অর্থ ফেরত পেলে ইরান তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে এবং আমদানির সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে পারবে।