বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাজধানী ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে চব্বিশ ঘণ্টার অধিকাংশ সময় রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে হোটেলের কেনা খাবার খেয়ে কিংবা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যাচেলর, শিক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী ও ছোট পরিবারগুলো।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর সেখান থেকে এলএনজি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে। রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট, জিগাতলা, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকছে না। বিকল্প হিসেবে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও এককালীন বাড়তি খরচ এবং লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তি বহুগুণ বেড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জানান, শুধুমাত্র আমদানিকৃত এলএনজি-নির্ভরতার কারণেই একটি মাত্র টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। টেকসই সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও পাইপলাইন অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।