শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। টানা বিমান হামলা, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা এবং ইরানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি সত্ত্বেও দেশটির সরকার পরিবর্তন বা পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান নিজেদের মিসাইল ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের কৌশলগত দুর্বলতা ও গোলাবারুদের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পেন্টাগনের অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরে বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরসহ অন্তত ১৫টি ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চীনকে মোকাবেলার কৌশল থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রধান যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করতে হয়েছে।
রণক্ষেত্রের সামরিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নিজ দেশেই রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এ যুদ্ধ সমর্থন করছেন এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় মার্কিন জনগণের ক্ষোভের মুখে ওয়াশিংটন নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসনে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে পারছে না। ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফির ভাষায়, ‘ইরান এই যুদ্ধে জিতছে, ট্রাম্প হারছেন।’ আর এই প্রকাশ্য সামরিক ব্যর্থতা ঢাকতেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কৌশল নিয়েছে, যা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।