শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে খাবারের টেবিলে বসে শুধু পেট ভরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শুধু পারস্পরিক বন্ধনই দৃঢ় করে না, এটি মানসিক প্রশান্তি ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একই টেবিলে বসে সবার সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার এই রীতিকে বলা হয় ‘কমেনসালিটি’ (Commensality)।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত একা খাবার খান, তাদের মধ্যে একাকীত্ব ও বিষণ্নতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। চীন ও জাপানের প্রবীণদের ওপর পরিচালিত একাধিক গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, পরিবারে থেকেও একা খাবার খাওয়ার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে বেশি সময় অন্যদের সঙ্গে বসে খাবার খান, তাদের জীবনের সন্তুষ্টি ও সুখের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, একসঙ্গে খাওয়ার সময় শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ নামের ভালো লাগার হরমোন নিঃসরণ বাড়ে, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এমনকি সঙ্গীর উপস্থিতিতে খাবারের স্বাদও তুলনামূলক বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে জাপানি গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত একা খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্মৃতি ও জ্ঞানীয় অঞ্চলের (হিপোক্যাম্পাস) কার্যক্ষমতার একটি সংযোগ রয়েছে। খাবারের টেবিলে সামাজিক মেলামেশা ও কথাবার্তা মানসিক চাপ কমিয়ে মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।
ইতালির মতো দেশগুলোতে একসঙ্গে খাবার খাওয়াকে সামাজিক সংস্কৃতির অংশ মনে করা হয়, যা তাদের মানসিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখছে। গবেষকদের মতে, সুস্বাস্থ্যের জন্য ‘কী খাচ্ছি’ তার পাশাপাশি ‘কার সঙ্গে এবং কীভাবে খাচ্ছি’ তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মোবাইল ফোন দূরে রেখে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দিনের অন্তত একটি বেলার খাবার ভাগ করে নেওয়াই হতে পারে মানসিক প্রশান্তির সহজ উপায়।