শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে মেট্রোরেলের পরিধি বাড়াতে নতুন করে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার। এতে ৬৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন মেট্রোরেল পথ নির্মিত হবে। তবে এই বিশাল খরচের বিপরীতে মেট্রোরেলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাড়া সাধারণ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১২টি প্রকল্পের মধ্যে মেট্রোরেলের এই তিনটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প, ভাড়া ও আর্থিক বিশ্লেষণের বিস্তারিত তথ্য:
মেগা ৩ প্রকল্প ও বিনিয়োগ: মেট্রোরেল লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি)—এই ৩টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান (জাইকা), এডিবি ও কোরিয়া।
ভাড়ার বর্তমান চিত্র: বর্তমানে উত্তরা–মতিঝিল রুটে (২০ কিমি) ভাড়া ৯০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। প্রস্তাবিত উত্তরা-কমলাপুর রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০০ টাকা। এর বিপরীতে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং সমদূরত্বে বাসভাড়া প্রায় ৫০ টাকা।
এশিয়ার অন্যান্য শহরের সঙ্গে তুলনা:
দিল্লি ও কলকাতা মেট্রো: সর্বনিম্ন ভাড়া ১০-২০ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ১৩-২৬ টাকা)।
বেইজিং মেট্রো: ৬ কিমি পর্যন্ত ৫০ টাকা (ভর্তুকিপ্রাপ্ত)।
ঢাকা মেট্রো: প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৫ টাকা, যা আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় তুলনামূলক ব্যয়বহুল।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত: বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, উচ্চ নির্মাণব্যয় ও ঋণের চাপের ফলেই ভাড়া বেশি রাখা হচ্ছে। তাঁদের মতে, শুধু টিকিটের ওপর নির্ভর না করে স্টেশনগুলোর অব্যবহৃত স্থানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে বিকল্প আয় বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভাড়া সাশ্রয়ী রাখা যায়।
আয় বনাম ঋণের বোঝা: গত অর্থবছরে মেট্রোরেল থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অনিরীক্ষিত আয় হলেও প্রতিবছর ঋণের কিস্তি বাবদ জাইকাকে গড়ে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। আয় ও পরিচালন ব্যয়ের এই বৈষম্যের কারণে ভবিষ্যতে ভাড়া আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।