বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
চলতি বছরের গত নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৬ জনই বিএনপির নেতাকর্মী। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ জন নিহত হয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশ ঘটনার পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা দলটির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ১৬টি জাতীয় দৈনিকের তথ্য ও নিজস্ব অনুসন্ধান পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময়ে দেশজুড়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জন বন্দির এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।
এইচআরএসএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ১৩টি সহিংসতার মধ্যে ৯৩১টি (৯১ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অন্যান্য দলের সঙ্গে সংঘাতের কারণে। দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ২ হাজার ৬৩২ জন আহত ও ৪০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের ৩২১টি সংঘর্ষে আহত ২ হাজার ১৯০ ও নিহত ১১ জন। এছাড়া বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৯৩টি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত ও ৫৪৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার, প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এসব রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত নয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলায় ৫ হাজার ৬৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৭ জন আওয়ামী লীগের, ৬০৯ জন বিএনপির, ১৪৫ জন জামায়াতের এবং ৪৩ জন এনসিপির নেতাকর্মী রয়েছেন।