মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ঠিক ১২ বছর আগের বিভীষিকাময় সেই দিনটি যেন হুবহু ফিরে এলো নাটোরের বড়াইগ্রামে। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৭ জন। কালের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১২ বছর পর একই তারিখে—২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর—আবারও মহাসড়কে ঝরল ১৪টি তাজা প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো নাটোরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, নতুন করে সামনে এসেছে মহাসড়কের বেহাল ও নিরাপত্তাহীন বাস্তবতা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে জাহেদা ক্লিনিকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও চারজন। আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন—শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ ফকির (৭০), সোহাগ হোসেন (৩০), জুয়েল রানা (৪০), শালাল মোল্লা (৪৫) ও শাহিন হোসেন (২৫); আরপি পরিবহনের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সোহেল রানা (৪০); রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালীর আট বছর বয়সী শিশু তাছফিয়া খাতুন।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসটি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলছিল। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দ্রুতগতির বাসটি অন্য একটি গাড়িকে বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে উল্টো লেনে চলে যায় এবং সঠিক লেনে থাকা বালুবোঝাই ট্রাকটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হুইপ দুলু শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসন নিহতদের দাফন ও চিকিৎসার সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াৎকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উল্লেখ্য, বড়াইগ্রামের এই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া মহাসড়কটিতে ২০০২ সালে চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ৮৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের সেই অভিশপ্ত ২০ অক্টোবরের ১২ বছর পূর্তির দিনে আবারও ১৪ জনের প্রাণহানি সড়কের নিরাপত্তাহীনতা এবং চার লেনে উন্নীত না করার করুণ চিত্রকেই উন্মোচিত করল।