সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ

নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

ইসরায়েলে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পর ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। একই স্থানে ‘নির্বাচন চুরি’ ও কারচুপির অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সমর্থকেরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা, হাতাহাতি ও তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল (TOI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। তবে এর মধ্যে আরব দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ বা সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী শিবিরের ইহুদিপ্রধান দলগুলোর মধ্যে মতভেদ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় একটি অংশগ্রহণমূলক জোট সরকার গঠনের দাবিতে বামপন্থি তৃণমূল আন্দোলন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’-এর নেতৃত্বে হাজারো নাগরিক হাবিমা স্কয়ারে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল ইবনে গাভিরোল সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক রাবিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা হিব্রু ও আরবি ভাষায় ‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে অস্বীকার করে’, ‘বর্ণবাদকে না, অংশীদারত্বকে হ্যাঁ’ এবং ‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।

অন্যদিকে, একই স্কয়ারের অদূরে প্রায় ২০০ নেতানিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থি অবস্থান নিয়ে পাল্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, নির্বাচনে চরম অনিয়ম হয়েছে এবং বিদেশি আর্থিক মদদে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিও একই ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। এ সময় তারা ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’ স্লোগান দিয়ে আরবদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে ডানপন্থি এক বিক্ষোভকারী বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প আউশভিৎস ও সোবিবোরের নাম উল্লেখ করে গণহত্যায় পাঠানোর হুমকি দেন। শিল্পী ইগাল শ্তাইমের ধারণ করা ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের আবার সোবিবোর বানিয়ে দেব।’

নেসেটের সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ:

নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির ৬৭টি আসনে এগিয়ে থাকলেও আরব দলগুলোকে বাইরে রাখলে ইহুদিপ্রধান চারটি বিরোধী দলের আসন দাঁড়ায় মাত্র ৪৮টিতে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুকরী সংখ্যা ৬১ স্পর্শ করা অসম্ভব। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ব্লকের আসনসংখ্যাও ৫৩, যা এককভাবে সরকার গড়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো—বিশেষ করে জয়েন্ট লিস্ট (১১ আসন) ও রা’আম (৮ আসন)—সরকার গঠনের মূল নিয়ন্ত্রক (কিংমেকার) হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নাতীত এবং কারচুপির কোনো ভিত্তি নেই। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com