সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস কোনো বিপ্লবের নয়, বরং তা আত্মসমর্পণের এবং স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।
চলমান পোশাকশ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন একের পর এক দেশে গিয়ে বিনিয়োগের বড় বড় প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন এবং দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, এসব উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করতে বাসে-গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আর প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকে যাদের আটক করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গেই যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রিজভী জানান, আজকেও বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই ব্যক্তি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের ভেতর অনুপ্রবেশ করে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পরাজিত শক্তি, অন্যদিকে দৃশ্যপটে আসা নতুন আরেকটি শক্তি—উভয়েই গোপন আঁতাত বজায় রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু ধর্মীয় পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিকল্পনা একটি ঐতিহাসিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ।
জাতীয়তাবাদী শক্তির আদর্শ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এই দেশের মাটির পক্ষে, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে। বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু নেই, যারা আমাদের আশ্রয় দেবে। আমরা এই দেশেই থাকব, এই দেশের মাটিতেই বাঁচব এবং মরব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে উত্থাপিত সাত দফা দাবির জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংস্কার বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান হচ্ছে একটি জাতির আত্মজীবনী; তাই গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এজিএস ইলতুৎমিশ সওদাগর এনি এবং অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসাইন মৃধা প্রমুখ।