রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
আজ ৯ ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় নেত্রকোণা। মুক্তির উল্লাসে মেতে উঠে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিকামী জনতা।
দিবসটি উদযাপনে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা।
সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবনের সামনে থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘প্রজন্ম শপথ’ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে স্থানীয় পাবলিক হলে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়।
এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী, মির্জা আজিজুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, যুগ্ম আহবায়ক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, মাও. মফিজুর রহমান, সজীব সরকার রতন, মো. কামাল উদ্দিন, খান মোহাম্মদ অপু, ফাহিম রহমান খান পাঠান ও শেখ হাসনাত জাহান প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
একাত্তরের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় নেত্রকোণা। আট ডিসেম্বর রাতে মিত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন চৌহান মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সেখানেই পরিকল্পনা হয় পর দিন সকালে নেত্রকোনা মহকুমা শহরে থাকা পাক সেনাদের হামলা করা হবে। পরিকল্পনা মত মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক ঘিরে অ্যাম্বুস করে। ক্যাপ্টেন চৌহান ফায়ার ওপেন করার সাথে সাথেই ঝাঁপিয়ে পড়ে সূর্যসেনারা। শহরের কৃষি ফার্ম এলাকায় টানা চার ঘন্টা যুদ্ধের পর পিছু হটে পাক সেনারা ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যায়। এই যুদ্ধে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা আবু খাঁ, আব্দুর রশিদ ও আব্দুস সাত্তার।