রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
দেশের প্রথম প্রজন্মের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক চাকরিজীবীদের বেতনের বিপরীতে বিশেষ ঋণ সেবা চালু করেছে। চাকরিজীবীরা শতকরা ১৩ শতাংশ সুদে বেতনের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। যেকোনো ব্যাংকের বাণিজ্যিক মাধ্যমে বেতন প্রাপ্ত চাকরিজীবীরা এবি ব্যাংকের এই ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ব্যাংকটির নতুন অ্যাপ ‘এবি ডিরেক্ট’সহ মোট চারটি সেবা উদ্বোধন করা হয়। ব্যাংকটির পরিচালক ফজলুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সৈয়দ মিজানুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাংকের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, “এবি ব্যাংক অনেক প্রডাক্ট বাজারে আনছে। সামনের দিনগুলোতে আরো সহজ এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রডাক্ট চালু করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতের দিকে তাকাতে চাই না, সামনে যত ভালো করা যায় সেটি দেখতে চাই।”
ভারপ্রাপ্ত এমডি জানান, নতুন কয়েকটি সেবা যুক্ত করে চালু হওয়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপের নাম দেয়া হয়েছে ‘এবি ডিরেক্ট’। এ ছাড়াও এবি ইলহাম, এবি আমানী, কোটিপতি ডিপোজিট স্কিম (কেডিএস) ও এবি স্বাচ্ছন্দ্য নামে চারটি নতুন ব্যাংকিং প্রোডাক্ট গ্রাহকদের জন্য চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবি ডিরেক্ট ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসে আধুনিক সব ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন। এছাড়া ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক মুদারাবা ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ‘এবি ইলহাম’ ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিককে আকর্ষণীয় মুনাফা লাভের সুযোগ দিচ্ছে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক অ্যাকাউন্ট ‘এবি আমানী’ নারী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সঞ্চয়ী হিসাব, যেখানে রয়েছে ইন্স্যুরেন্সসহ আরো কিছু বিশেষ সুবিধা। মাসিক সঞ্চয়ের ভিত্তিতে যেকোনো আমানতকারীকে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ দিতে এসেছে এবি কোটিপতি ডিপোজিট স্কিম।
অপর দিকে ‘এবি স্বাচ্ছন্দ্য’ একটি চলতি হিসাব, যেখানে গ্রাহকরা ইন্টারেস্ট পাবেন। এই অ্যাকাউন্টে চাকরিজীবীদের জন্য ওভারড্রাফট সুবিধা রয়েছে, যা ক্রেডিট কার্ডের আদলে তৈরি ব্যাংকিং খাতে প্রথম উদ্যোগ। চাকরিজীবীরা এই সুবিধাটি ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বেতনের ভিত্তিতে নিতে পারবেন। ঋণের পরিমাণ হবে বেতনের ৬০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, এবি ব্যাংক দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে গ্রাহকের সেবা নিয়ে অনেক অবদান রেখেছে। গ্রাহকের সেবায় সর্বদা নিবেদিত থাকার জন্য ব্যাংকটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা আরো জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে চলতি ডিসেম্বর ও আগামী মার্চ মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।
এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জেড এম বাবর খান বলেন, “আমরা সবসময় গ্রাহকদের পাশে পেয়েছি। ঋণ অনাদায়ের তিন মাস পার হলে খেলাপি করার বিষয়টি একটি ভালো উদ্যোগ।”
ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখন থেকে স্বচ্ছ থাকতে চাই। কোনো লুকোচুরি থাকবে না।”
সূত্র: ইউএনবি