রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না— বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যে জামায়াত আমির বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দলীয় কোটায় ৫২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বেঈমানি করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন তরুণ প্রজন্মের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এসেছে। কিন্তু আজ যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারা আন্দোলনের সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন। স্বৈরাচারের মতো একই পথে হাঁটলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে এখন সর্বত্র চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মহাউৎসব চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ও প্রশাসন ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ফেলা হচ্ছে।
ভারতের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের শান্তি নিয়ে টান দিলে কাউকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।” তিনি ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। প্রতিবেশী দেশের লাল চোখ জনগণ মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বাংলাদেশ।
সমাবেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ, এখানে কোনো অশান্তি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সংসদে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে, আর সেখানে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথেই জনগণের পার্লামেন্ট গড়ে উঠবে।
১১ দলের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।