রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার (৪০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে চারটার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে তাঁর ভাসমান দেহটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
লৌহজংয়ের মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস ও মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে নদীতে লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ, মামলার বাদী ও ফোরকানের ভাই আব্দুল জব্বার প্রাথমিকভাবে মরদেহটি ফোরকানের বলে শনাক্ত করেন। তবে লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপ বা ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছিলেন, ১১ মে পদ্মা সেতুতে কুড়িয়ে পাওয়া ফোরকানের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রাইভেটকার থেকে নেমে মোবাইলটি ফুটপাতে রেখে সেতু থেকে নদীতে লাফ দিচ্ছেন। তদন্তে জানা যায়, ঢাকার পল্টন থেকে রেন্ট-এ-কার-এর গাড়ি ভাড়া করে ফোরকান সেখানে গিয়েছিলেন। ৯ মে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাকে ধরতে পুলিশের তিনটি দল গোপালগঞ্জ ও বেনাপোল সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তাঁদের তিন সন্তান মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শ্যালক রসুল মোল্লার (২৩) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, নৃশংস এই ৫ খুনের ঘটনার একমাত্র হোতা ফোরকান নিজেই এবং গ্রেফতার এড়াতে তিনি পদ্মা সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।