সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—দুজনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অপরাধ ঢাকতে এবং স্বামীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করায় সমান অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে দেশের বিচার ইতিহাসে এক অনন্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীতে পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায় স্বপ্না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামির ঘরের মেঝে থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে কাটা মাথা উদ্ধার করে পরিবার ও পুলিশ। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করলে পুলিশ স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিল সোহেল। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আজ ৭ জুন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো।
আইনজীবীরা মনে করছেন, সরকারের সদিচ্ছা ও আদালতের আন্তরিকতার কারণেই এত দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।