বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জের ধরে ইরানের ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে চালানো এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবহরসহ ৮০টিরও বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করে।
সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নির্বিঘ্নে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট যুদ্ধ-নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করা হলে ইরানকে আবারও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেন্টকম।
এদিকে, বুধবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের মালিকানাধীন তেল ট্যাঙ্কার ‘আল রেখায়াত’-এর ওপর একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই হামলার পর কাতার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোহায় নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। তবে কাতার ও মার্কিন বাহিনীর আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যেসব জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে ওমানি রুট ব্যবহার করেছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।