শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সারাজীবন সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। অথচ কলকাতায় হোটেলের আগুনে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা মহিমার ভবিষ্যৎ।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন দেবাশীষ। কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাসরত এই পরিবারের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। নিহত সাংবাদিকের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই হৃদরোগে আক্রান্ত; প্রতি মাসে শুধু ওষুধের পেছনেই খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি ভাড়াসহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব ছিল দেবাশীষের ওপর। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা স্বপ্না দত্ত ও অসুস্থ বাবার একটাই আকুতি—অসহায় শিশুটিকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সরকার যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
সহকর্মী ও কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন ইতোমধ্যে পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এদিকে মহিমার পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর বিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ‘এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল ঘোষণা দিয়েছেন, মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত যাবতীয় পড়াশোনার ব্যয় প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে।
উল্লেখ্য, ভারতে চিকিৎসা শেষে গত ৩ আগস্ট রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন তাঁরা। এতে নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর ও তিন বছর বয়সী শিশুপুত্র প্রাণ হারান।