বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬০ জনে। এছাড়া চার শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। হিমালয়ের উপত্যকা দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির তীব্র স্রোতে বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
নেপাল পুলিশ সীমান্ত এলাকা থেকে ১৫৭টি এবং চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বত অংশ থেকে ৩টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নেপালি প্রশাসনের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১৩৩ জন ভারতীয়, ৪৭ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৪ জন কানাডীয় নাগরিক। এছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় শ্রমিকেরও কোনো খোঁজ মিলছে না।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় এ বিপর্যয় ঘটে। সীমান্ত ঘেরা তিব্বতি অংশের উচ্চভূমি থেকে বরফ ও পাথরের একটি বিশাল অংশ খসে লেন্দে নদীতে আছড়ে পড়লে পানির তীব্র স্থানচ্যুতি ঘটে। ফলে সৃষ্ট রাক্ষুসে ঢল নিমেষেই নেপালের অংশে আছড়ে পড়ে জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) প্রাথমিকভাবে এটিকে ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করলেও পরে জানায়, এটি কোনো ভূকম্পন ছিল না; বরং বিশাল ভূমিধসের তীব্রতার কারণেই প্রায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
এই বিপর্যয়ে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। অন্যদিকে তিব্বত অংশে চীন সরকারও জোর তৎপরতা শুরু করেছে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।