রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
বার্ধক্যজনিত ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগে পরলোকগমন করেছেন গাইবান্ধার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি (৮৪)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলার শহরের নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিজ বাড়িতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এর আগে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (গার্ড অব অনার) লাল-সবুজের পতাকায় জড়িয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়।
সংগ্রাম, নির্যাতন ও বীরত্বের ইতিহাস:
৭১-এর নির্যাতন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৫-২৭ বছর বয়সী ফুলমতিকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ‘বীর নিবাস’: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর অবহেলিত থাকার পর ২০১৬ সালে নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি। ২০১৭ সালে সরকার সাদুল্লাপুরে তার জন্য একটি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেয়।
সংগ্রামী জীবন: ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকারকে হারানোর পর চরম অভাব-অনটনের মাঝেও দিনমজুরি ও কষ্ট করে ৫ ছেলে ও ২ মেয়েকে এক হাতে মানুষ করেন এই অদম্য নারী।
শেষ জীবনের অসুস্থতা: দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস ও ব্রেন স্ট্রোকসহ নানাবিধ জটিলতায় ভুগে জীবনের শেষ দিনগুলো শয্যাশায়ী অবস্থায় কেটেছে তার।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ফুলমতি মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত ইতিহাস। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে ছিলেন।
এদিকে বীরাঙ্গনা ফুলমতির ত্যাগ ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে তার সমাধিস্থলে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।