শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) নিজ কক্ষে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিচালক আবু ইউসুফকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায়’ এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। আটক আবু ইউসুফ পাবনার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসায় প্রামাণিকের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবু ইউসুফ কয়েক বছর আগে ওই আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা গড়ে তোলেন এবং নিজেই তা পরিচালনা করতেন। মাদ্রাসায় তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও থাকতেন। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালেই ইউসুফ তাঁর স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর গভীর রাতে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অপচেষ্টা চালান তিনি।
এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাইরে এসে চিৎকার শুরু করে। সহপাঠীর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং হাতেনাতে অভিযুক্ত পরিচালককে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাদ্রাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং একপর্যায়ে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।