শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর দলীয় পদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নাটোর জেলা বিএনপি। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটির এ ধরনের শাস্তিমূলক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টানা আট ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় এমপি আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর পরদিনই (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং এমপির আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়। তৃণমূলের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর সংসদ সদস্য ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের জোর দাবি ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার সকাল ১০টায় নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আহ্বায়ক কমিটির জরুরি বিশেষ সভা ডাকা হয়। জেলা আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে চলা দীর্ঘ আট ঘণ্টার এই বৈঠকে শাকিল হত্যা মামলায় এমপিপুত্র মিন্টুর সংশ্লিষ্টতা ও এমপির ভাইরাল ভিডিওর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। তবে পর্যালোচনা শেষে দেখা যায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “আমরা উদ্ভূত সবগুলো পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। তিনি শুধু দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কই নন, একজন জাতীয় সংসদ সদস্যও। দলীয় গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলা কমিটির ক্ষমতা নেই কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। তাই সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে পরবর্তী যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব দলের হাইকমান্ডের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।”
এদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নূরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। নাটোরের গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসানের আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থেই আদালতের কাছে ফের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।