শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নতুন পে-স্কেল বা বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন পরিশোধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এর ফলে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত অর্থ পাওয়ার কথা চাকরিজীবীদের। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ (ফিক্সেশন) প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে এ সুবিধা পাচ্ছেন না। তাঁদের আপাতত আগের কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে হিসাব চূড়ান্ত করে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ একসঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশের বেতন নির্ধারণের কাজ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও শেষ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ১ নভেম্বর থেকে সবার বর্ধিত বেতন একযোগে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রমবিন্যাস, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির নীতিমালা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতি-পরবর্তী আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে একাধিক অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এসব নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে কার কত বেতন চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশাসনিক জটিলতা। এর পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ‘আইবাস++’ (iBAS++)-এ প্রযুক্তিগত নানা জটিলতা বেতন নির্ধারণ ও ছাড়করণের প্রক্রিয়াকে আরও মন্থর করে তুলেছে।
এসব জটিলতা নিরসনে ইতোমধ্যে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে ১ নভেম্বরের আগে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত সমাধানের কাজ চলছে।