শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০০টি উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সমরাস্ত্র ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্ত হতে ‘কয়েক বছর’ সময় লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদিত পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মোট চুক্তি মূল্য প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলার। এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোনো তহবিল খরচ হবে না; সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে কানাডা, জার্মানি, নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণ তহবিল। সমরাস্ত্রগুলো তৈরির প্রধান কাজ করবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবিত বিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা একটি অংশীদার দেশের আকাশ নিরাপত্তা জোরদার হবে, যা একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।
এদিকে অনুমোদনের পর শুক্রবার রাতে এক বার্তায় মার্কিন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানালেও ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত সরবরাহের দাবি জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আসন্ন শীতের প্রাক্কালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী হামলা বাড়িয়েছে; গত দুই সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ৩০টির বেশি হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ সুরক্ষিত রাখতে এবং রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে প্যাট্রিয়টের কোনো বিকল্প নেই এবং এগুলো দেশটির ‘এখনই’ প্রয়োজন।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান সামরিক মজুত থেকে নয়, বরং নতুনভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বছরে গড়ে মাত্র ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে চুক্তি হলেও তা কিয়েভের হাতে পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে আটলান্টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমা কূটনীতিকেরা। আনুষ্ঠানিক যৌথ ছবি তোলার সময় তারা লাভরভের সঙ্গে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সরাসরি লাভরভকে উদ্দেশ্য করে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য মস্কোকে দায়ী করেন।