শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নেত্রকোণায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদীচী ট্র্যাজেডি দিবস পালন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শহর তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায়। বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে দাঁড়িয়ে ২০০৫ সালের এই দিনে উদীচী কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, নেত্রকোণা কার্যালয়ে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মহড়ার প্রস্তুতির সময় জঙ্গি সংগঠন জেএমবি আত্মঘাতী হামলা চালায়। এতে আটজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। সেই স্মৃতিতে প্রতিবছর ৮ ডিসেম্বর উদীচী ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস’পালন করে।
সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করে শহরের উদীচী ট্র্যাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, গবেষক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব, জেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, বোমা হামলায় আহত সংস্কৃতিকর্মী তুষার কান্তি রায়, নারী প্রগতির কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মৃণাল চক্রবর্তী, কবি এনামূল হক, নারীনেত্রী কোহিনূর বেগমসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘মানব না এই বন্ধনে’ ‘কারা মোর ঘর ভেঙেছে’ সহ জনপ্রিয় গণসংগীত পরিবেশিত হয়।
স্মরণ সভার পর অনুষ্ঠিত হয় ‘৩ মিনিট স্তব্ধ নেত্রকোনা’কর্মসূচি, সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধী মানববন্ধন এবং শহীদদের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়।
স্মরণসভায় বক্তরা বলেন, “দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর হওয়ায় আমরা খুশি, আমার চাই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমন উগ্রবাদি ঘটনা যেনো আর না ঘঠে। ।
বিষয়টি অনুসন্ধানে পুলিশ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা করেন। রায়ে আসামিদের মধ্যে সালাউদ্দিন ও আসাদুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা বিভিন্ন সময় কার্যকর হয়।
তবে এখনো হতাহতদের পরিবার সেই দুঃসহ স্মৃতির বয়ে বেড়াচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে তারা সীমিত সম্পদে জীবিকা নির্বাহ করছেন, হারানো প্রিয়জনদের স্মৃতি আজও তাদের তাড়া করে ফিরছে।