বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে দুষ্প্রাপ্যতা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের আমদানি ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের বাজারে।
আকাশচুম্বী খাদ্যমূল্য ও সরবরাহ সংকট
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মার্চ মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় সব প্রধান পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে পাম তেলের দাম এখন সয়াবিন তেলকেও ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
শিল্প খাতে ‘কস্ট-পুশ’ সংকট
বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখে। বিজিএমইএ ও ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, রাসায়নিকের দাম ৫০ থেকে ১৮৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া পলিয়েস্টার সুতা, ইস্পাত ও ওষুধের কাঁচামালের দামও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগের নেওয়া অর্ডারে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে।
মসলা ও আমদানিকৃত পণ্যের বাজারে আগুন
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইরান ও আফগানিস্তান থেকে আসা পণ্যে। পেস্তাবাদামের দাম ৩০ শতাংশ বাড়লেও শুকনা আলুবোখারার দাম বেড়েছে রেকর্ড ১৬০ শতাংশের বেশি। এছাড়া কিশমিশ, জিরা ও অন্যান্য মসলার দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারের উদ্বেগ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরকার এখনো তেলের দাম না বাড়ালেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে আগামী দিনে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।