রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ধর্ষণ বিশ্বব্যাপী একটি জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর শাস্তি দেশভেদে ভিন্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরাধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশ আইন আরও কঠোর করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তিই নয়, দ্রুত বিচার ও সামাজিক সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুদণ্ডের বিধান যেসব দেশে
চীন, সৌদি আরব ও ইরানে গুরুতর ধর্ষণ বা ভুক্তভোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ভারতে ২০১৮ সাল থেকে এবং বাংলাদেশে ২০২০ সাল থেকে শিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
রাসায়নিক ও স্থায়ী খোজাকরণ (ক্যাস্ট্রেশন)
যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেওয়ার চিকিৎসাপদ্ধতি ‘কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন’ চালু আছে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। অন্যদিকে, মাদাগাস্কার সম্প্রতি ১০ বছরের কম বয়সী শিশু ধর্ষকদের জন্য স্থায়ীভাবে ‘সার্জিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন’ বাধ্যতামূলক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও শিশু ধর্ষকদের জন্য এই আইন পাস হয়েছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইউরোপের দেশগুলো মানবাধিকার ও বিচারিক ভুলের ঝুঁকির কারণে শারীরিক শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী; তারা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডকে প্রাধান্য দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাপ্তবয়স্ক ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে।
ভীতিকর পরিসংখ্যান ও বিচারের বাস্তবতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি ৩ জন নারীর মধ্যে ১ জন জীবনের কোনো না কোনো সময় যৌন সহিংসতার শিকার হন। তবে সামাজিক চাপ ও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে বিশ্বে মাত্র ১০% ধর্ষণের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট হয়। এমনকি ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০% ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। ফলে অনেক দেশে সাজা হওয়ার হার মাত্র ৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, শুধু কঠোর আইন নয়, আইনের সঠিক প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনই পারে এই অপরাধ রুখতে।