বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। তবে আগের মতো স্বল্প হারে ‘বিশেষ কর’ দিয়ে নয়, এবার নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। এটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।
নতুন বিধান অনুযায়ী, জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হলে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সেই পার্থক্যের ওপর ৩০ শতাংশ নিয়মিত কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। অন্যদিকে, সম্পত্তি বিক্রির সময় মূল্য গোপন করা হলে বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ হারে মূলধনী কর দিতে হবে। তবে করদাতা নিজে থেকে ঘোষণা দেওয়ার আগে আয়কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধরে ফেললে, প্রদেয় করের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে দলিলে ৫০ লাখ টাকা দেখালে গোপন করা দেড় কোটি টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে। আর কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করার পর ঘোষণা দিলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। একইভাবে বিক্রেতার ক্ষেত্রে গোপন করা দেড় কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর এবং ধরা পড়লে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
বাজেটে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মে কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে অন্য কোনো আইনে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আদালতে দোষী সাব্যস্ত বা মামলা চলমান থাকা ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না। উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার তা বাতিল করেছিল; এবার নিয়মিত করহারে এই সুযোগ আবার ফিরিয়ে আনা হলো।