শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বর্ণাঢ্য ও বিস্ময়কর ক্যারিয়ারের অধিকারী কমল হাসান। গত ছয় দশকে শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে অভিনেতা, নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক হিসেবে নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। কেবল চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ই নয়, চলচ্চিত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও তিনি তৈরি করেছেন নতুন নজির।
১৯৬০ সালে ‘কালাতুর কান্নাম্মা’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ৫০০ রুপি পারিশ্রমিক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কমল হাসান। ১৯৭৫ সালে ‘অপূর্বা রাগানগাল’ সিনেমার মাধ্যমে যখন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, তখন তার পারিশ্রমিক ছিল ৫ হাজার রুপি। তবে নব্বইয়ের দশকে এসে তিনি ভারতীয় সিনেমার পারিশ্রমিকের চাকা বদলে দেন। ১৯৯৪ সালে ‘মহানধি’ সিনেমার জন্য ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা, যিনি কোনো সিনেমার জন্য কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে পারিশ্রমিকের বদলে সিনেমার লভ্যাংশ ও ডিস্ট্রিবিউশন স্বত্ব নেওয়ার সাহসী ব্যবসায়িক কৌশল বেছে নেন কমল হাসান। প্রযোজক এইচ. মুরালি জানান, ‘আব্বাই শানমুগি’ সিনেমার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক না নিয়ে ৪টি অঞ্চলের ডিস্ট্রিবিউশন স্বত্ব নেন তিনি, যা থেকে পরবর্তীতে তার আয় হয় প্রায় ৫ কোটি রুপি। তার এই সফল ব্যবসায়িক মডেল পরবর্তীতে ভারতের অনেক শীর্ষ তারকাই অনুসরণ করেছেন।
বর্তমানে ৭১ বছর বয়সেও সমান জনপ্রিয় ও ব্যস্ত এই মহাতারকা। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমার জন্য তিনি প্রায় ১৩০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন এবং এর সিক্যুয়েলের জন্য ১৫০ কোটি রুপি নিচ্ছেন বলে খবর রয়েছে। শুধু বড় পর্দাই নয়, ছোট পর্দাতেও তিনি রেকর্ড গড়েছেন; ‘বিগ বস তামিল’ অনুষ্ঠানের প্রতি সিজনের জন্য তিনি ১৩০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন।
মণি রত্নমের পরিচালনায় তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘থাগ লাইফ’। বর্তমানে ‘কল্কি’র সিক্যুয়েল ছাড়াও সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে ‘কেএইচএক্সআরকে’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এই কিংবদন্তি।