বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
স্পর্শ কেবল একটি অনুভূতি নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকা ও সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে মানবিক ছোঁয়া থেকে দূরে সরে গিয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ‘টাচ ডিপ্রাইভেশন’ বা স্পর্শহীনতার মতো নীরব মানসিক সংকটে।
চিকিৎসা ও স্নায়ুবিজ্ঞানের মতে, স্পর্শ বা আলিঙ্গনের সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহে ‘অক্সিটোসিন’ বা ভালোবাসার হরমোন নিঃসৃত হয়, যা দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে মন শান্ত করে এবং হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। শৈশবে পর্যাপ্ত স্পর্শের অভাব শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিপরীতে, দীর্ঘদিন স্পর্শহীন থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং বিষণ্ণতা, উৎকণ্ঠা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্র বা শ্রেণিকক্ষে পিঠ চাপড়ে দেওয়া বা করমর্দনের মতো ইতিবাচক স্পর্শ মানুষের আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিঃসঙ্গ জীবনে এই ঘাটতি পূরণে ম্যাসাজ থেরাপি, পোষা প্রাণীকে আদর করা কিংবা ‘ওয়েটেড ব্ল্যাঙ্কেট’ ব্যবহার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো স্পর্শের ক্ষেত্রে পারস্পরিক ‘সম্মতি’ বা কনসেন্ট থাকা অপরিহার্য।