মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) আক্রান্ত শিশুদের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা একটি সাধারণ কিন্তু জটিল বিষয়। সময়মতো ঘুম না আসা, দুঃস্বপ্নে জেগে ওঠা, বিছানায় প্রস্রাব করা কিংবা চরম অস্থিরতা শুধু শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও দিনের কাজকেই ব্যাহত করে না, বরং পুরো পরিবারের ওপর গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মেলাটোনিন হরমোনের ঘাটতি, যা স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নষ্ট করে। এ ছাড়া স্পর্শ, আলো বা শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, এডিএইচডি (ADHD), উদ্বেগ এবং পেটের নানা সমস্যাও ঘুম না হওয়ার বড় কারণ। অনেক সময় ক্লান্তি বোধ করলেও শিশুরা তা প্রকাশ করতে পারে না।
খাদ্যাভ্যাস এবং অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য ঘুমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম রংযুক্ত খাবার শিশুর উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তাই সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর জন্য একটি ‘স্লিপ লগ’ বা ডায়েরি সংরক্ষণ করা উচিত, যা সমস্যার উৎস শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ওষুধ ছাড়াও শোবার ঘরের অনুকূল পরিবেশ—যেমন আলো কমানো, শান্ত পরিবেশ রাখা, ঘরের আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং সুনির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচি মেনে চলার মাধ্যমে এএসডি আক্রান্ত শিশুর ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।